চায়ের ন্যূনতম মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে নিলাম বর্জন করেছে স্থানীয় ও ব্র্যান্ডেড কোম্পানির ক্রেতাদের একাংশ। এ কারণে গতকাল চট্টগ্রামে চায়ের আন্তর্জাতিক নিলাম কেন্দ্রের সিংহভাগ চা-ই বিক্রি হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ন্যূনতম নিলাম মূল্য পর্যালোচনায় আজ ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে বাংলাদেশ চা বোর্ড।
ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, চা বাগানগুলোকে সুরক্ষা দিতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। আমদানিতে ৮৯ শতাংশ শুল্কারোপ ছাড়াও স্বল্প সুদে ঋণ ও রেশনসহ চা বাগানগুলোকে বিশেষ ছাড় দেয়া হয়। এর পরও রুগ্ণ বাগানগুলোর কারণে দেশের চা খাতে সংকট বেড়েছে। অথচ সংকটে থাকা বাগানগুলোকে কার্যকর না করে উল্টো প্রতি বছর ন্যূনতম নিলাম মূল্য বাড়ানো হচ্ছে। এতে বাগানগুলো সুযোগ-সুবিধা নিয়েও গুণগত মান বৃদ্ধিসহ উৎপাদন বাড়াতে মনোযোগী হচ্ছে না। অথচ নিলামের মূল পদ্ধতি পরিবর্তন করে ন্যূনতম মূল্যবৃদ্ধির দিকেই হাঁটছে চা বোর্ড। এতে দেশে চায়ের ভোক্তারা চাপে পড়বে, পাশাপাশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল বিনিয়োগের পরও বড় ধরনের লোকসানে পড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, ঈদের পর গতকাল ৬ নম্বর নিলাম শুরু হয়। কিন্তু সকালে অধিকাংশ ক্রেতাই চা কেনা বন্ধ রাখেন। চা বোর্ড কর্তৃক ন্যূনতম মূল্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে নিলাম বর্জন করলেও ব্র্যান্ডেড কোম্পানিগুলো কিছু চা ক্রয় করেছে। দিন শেষে ৫২ শতাংশ চা-ই নিলাম থেকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠানগুলো। অথচ ঈদের আগে অনুষ্ঠিত ৫ নম্বর নিলামে ৭৫ শতাংশ চা ক্রেতারা কিনে নিয়েছিল। যদিও নিলাম মূল্যের বাধ্যবাধকতায় শেষ বিকালে লিকার রেটিং কমিয়ে চা বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ক্রেতা।
চা বোর্ডের নথি অনুযায়ী, ঈদের পরের নিলামগুলোয় চায়ের ন্যূনতম নিলাম মূল্য লিকার রেটিংভেদে কেজিপ্রতি সর্বনিম্ন ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ হিসাবে বাগান থেকে চা সরবরাহের পর ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠানগুলো সাতটি গ্রেডে চায়ের লিকার রেটিং করবে। এক্ষেত্রে ৫-এর মধ্যে ৪ ও ৪+ গ্রেডের চায়ের দাম এখন সিলেট ও চট্টগ্রামে কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩১৫ টাকা এবং বটলিফ চায়ের জন্য ২৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন গ্রেড ২ রেটিংয়ের চায়ের দাম সিলেট ও চট্টগ্রামে ১৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৪৫ টাকা এবং বটলিফ চায়ের জন্য ১৭০ টাকা করা হয়েছে।
জানতে চাইলে টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টিটিএবি) সহসভাপতি মোহাম্মদ ইদ্রিস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নিলাম মূল্য বৃদ্ধির কারণে অনেক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান চা ক্রয় না করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামীকাল (মঙ্গলবার) চা বোর্ডের সঙ্গে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’ বৈঠকে চায়ের ন্যূনতম নিলাম মূল্য কমানো সাপেক্ষে নিলামে অংশগ্রহণ বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠানের ৬ নম্বর নিলাম প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল চট্টগ্রাম নিলামে সর্বমোট ১৯ লাখ ৭৮ হাজার ৩৮৫ কেজি চা বিক্রির জন্য প্রস্তাব করা হয়। আগের বছরের একই নিলামে ১৫ লাখ ৩ হাজার ৩৩৭ কেজি চা বিক্রির প্রস্তাব করা হয়েছিল। ৫ নং নিলামে চায়ের গড় মূল্য ছিল ২৪৪ টাকা। চা বোর্ডের নতুন নিয়মের ফলে ৬ নম্বর নিলামে চায়ের গড় মূল্য বেড়ে কেজিপ্রতি ২৫০ টাকা ছাড়িয়েছে। চায়ের মূল্যস্তর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে আগামী নিলামগুলোয় চা ক্রয়ের হার আরো কমবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্রোকার্স প্রতিষ্ঠানসহ খাতসংশ্লিষ্টরা।